আন্তর্জাতিক বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ প্রত্যাশামাফিক সুদহার কমালেও মার্কিন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া ও অতিরিক্ত সরবরাহ পণ্যটির দাম কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর রয়টার্স।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল ব্যারেলে ২৬ সেন্ট বা দশমিক ৩৮ শতাংশ কমেছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য নেমেছে ৬৭ ডলার ৬৯ সেন্টে। এ সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) মূল্য দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৬৩ ডলার ৭৭ সেন্টে। এটি আগের দিনের তুলনায় ২৮ সেন্ট বা দশমিক ৪৪ শতাংশ কম।
ফেড গত বুধবার ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদহার কমিয়েছে। এছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকা সাপেক্ষে এ বছর সুদহার আরোপ কমানোর ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। সাধারণত সুদহার কমলে জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ে। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, বাজার এরইমধ্যে এ সিদ্ধান্তের প্রভাব কাটিয়ে উঠেছে।
ফিলিপ নোভার সিনিয়র মার্কেট অ্যানালিস্ট প্রিয়াংকা সচদেবা বলেন, ‘চলতি বছর আরো দুই দফায় সুদহার কমানোর ইঙ্গিতসহ ফেডের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের প্রভাব বাজারে আগেই প্রতিফলিত হয়েছিল।’
তিনি জানান, বাজারসংশ্লিষ্টদের নজর কেবল সুদহার কমানোর দিকেই নয়, বরং পাওয়েলের হতাশাজনক বার্তায়ও ছিল।’
ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘তিনি দুর্বল কর্মসংস্থান বাজার ও স্থায়ী মুল্যস্ফীতির ঝুঁকি তুলে ধরেছেন। ফলে এ সুদহার কমানোর পেছনে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করার চেয়ে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের কৌশল হিসেবে বেশি মনে হয়েছে।’
রাইস্টাড এনার্জির প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্লাদিও গালিমবার্তি জানান, ফেডের ইঙ্গিত থেকে বোঝা যাচ্ছে, নীতিনির্ধারকরা মূল্যস্ফীতির চেয়ে বেকারত্বের ঝুঁকিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারে স্থায়ী অতিরিক্ত সরবরাহ ও দুর্বল চাহিদাও দাম কমার পেছনে অন্যতম ভূমিকা রেখেছে। দেশটিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ গত সপ্তাহে কমেছে। রেকর্ড পরিমাণ আমদানি হ্রাস ও রফতানি বেড়ে যাওয়ায় মজুদ কমেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এ সময় ডিজেল ও জেট ফুয়েলের মতো ডিস্টিলেটের মজুদ ৪০ লাখ ব্যারেল বেড়েছে, যা বাজারের প্রত্যাশিত ১০ লাখ ব্যারেলের তুলনায় অনেক বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, এ তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি চাহিদা দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে বছর শেষে ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৫ ডলারে নেমে আসতে পারে। দাম কমে যাওয়ার পেছনে অন্যতম ভূমিকা রাখবে পণ্যটির নিম্নমুখী চাহিদা। সম্প্রতি এশিয়া প্যাসিফিক পেট্রোলিয়াম কনফারেন্সে দেয়া এক বক্তব্যে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের সহসভাপতি ডেভ আর্নসবার্গার এমন পূর্বাভাস দেন।
ডেভ আর্নসবার্গার বলেন, ‘ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৫ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসতে পারে। ওপেক-ভুক্ত দেশগুলো জ্বালানি তেলের উত্তোলন বাড়িয়েছে। এছাড়া রাশিয়া থেকে সরবরাহ অব্যাহত থাকার পাশাপাশি দেশগুলো মজুদ কমিয়ে দিলে কন্ট্যাঙ্গো (যখন স্পট মার্কেটের চেয়ে ফিউচার মার্কেটে দাম বেশি হয়) পরিস্থিতি তৈরি হবে।’